শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertisement

এনসিটি ইস্যুতে দুই দিনের কর্মসূচি স্থগিত, পাল্টাপাল্টি আল্টিমেটাম

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এনসিটি ইস্যুতে দুই দিনের কর্মসূচি স্থগিত, পাল্টাপাল্টি আল্টিমেটাম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ডিপি ওয়ার্ল্ড বা কোনো দেশি-বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি শুক্রবার ও শনিবারের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে শনিবারের মধ্যে সরকার সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না দিলে রোববার থেকে পুনরায় কর্মসূচি শুরুর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা হুমায়ুন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে ইব্রাহিম খোকন জানান, উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—
“এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে কোনো কোম্পানিকে দেওয়া যাবে না—এটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি।” এ বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, এককভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে দুই-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ইব্রাহিম খোকন আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেসব প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কার্যকর রাখা যাবে না এই দাবি উপদেষ্টা মেনে নিয়েছেন।

এ ছাড়া কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যতে আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কোনো বেআইনি বা হয়রানিমূলক আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন উপদেষ্টা।
তবে এনসিটি বেসরকারিকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে না পারার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন তিনি।

ঘোষণা দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবিও উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বিষয়টি তিনি নোটডাউন করেছেন।

তিনি বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয় আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পবিত্র রমজান মাসকে সম্মান জানিয়ে আমরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এমনকি আজ বিকেলেও কিছু জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সরকার যদি চূড়ান্ত চুক্তির পথে এগোয়, আমরা ঘরে বসে থাকবো না। কারো হুমকি-ধমকিতে আমরা ভয় পাই না।”

এর আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এভিয়েশন ফুয়েল আটকে থাকায় দেশের এয়ারলাইন খাত চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। জোয়ার-ভাটার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি জাহাজ আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন,“যারা কাজ করতে চায়, তাদের বাধা দেওয়া হলে সরকার হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য হবে। এইভাবে পোর্ট বন্ধ রাখা কোনো সমাধানের পথ নয়।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে রাখা যায় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের বিকল্প কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। এই কারণেই পরিস্থিতি এত স্পর্শকাতর।”

তিনি জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে এবং একটি কমিটি গঠন করা হবে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে যদি বন্দর সচল না হয়, তাহলে সরকার অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শনিবারের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত না এলে রোববার থেকে কর্মসূচি আবার শুরু হবে, এর দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।###আকিব

Facebook Comments Box
আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস