ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইসলামী জীবন ডেস্ক
হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সিয়াম এর শব্দিক অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম ‘সাওম’। তবে সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্ব থেকে শুরু করে সূর্যস্ত পর্যন্ত সিয়ামের নিয়াতে একাধারে এভাবে বিরত থাকলেই তা সিয়াম বলে গণ্য হবে।
সূর্যাস্তের এক মিনিট আগেও যদি কোনো কিছু খেয়ে ফেলে, পান করে কিংবা সহবাস করে, তবে সাওম হবে না। অনুরূপ উপায়ে সবকিছু থেকে পূর্ণ দিবস বিরত থাকার পরও যদি সিয়ামের নিয়্যত না থাকে, তবে তাও সিয়াম পালন হবে না। সিয়াম ইসলামের মূল ভিত্তি বা আরকানের অন্যতম। সিয়ামের অপরিসীম ফজিলত রয়েছে।
মুসলিমদের প্রতি সিয়াম ফরজ হওয়ার নির্দেশটি একটি বিশেষ নযীর উল্লেখসহ দেয়া হয়েছে। নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিয়াম শুধুমাত্র তোমাদের প্রতিই ফরজ করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল। এর দ্বারা যেমন সিয়ামের বিশেষ গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে, তেমনি মুসলিমদের এ মর্মে একটি সান্ত্বনাও দেয়া হয়েছে যে, সিয়াম একটা কষ্টকর ইবাদাত সত্য, তবে তা শুধুমাত্র তোমাদের উপরই ফরজ করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর উপরও ফরজ করা হয়েছিল। কেননা, সাধারণতঃ দেখা যায়, কোনো একটা কষ্টকর কাজে অনেক লোক একই সাথে জড়িত হয়ে পড়লে তা অনেকটা স্বাভাবিক এবং সাধারণ বলে মনে হয়।
আয়াতের মধ্যে শুধু বলা হয়েছে যে, ‘সিয়াম যেমন মুসলিমদের ওপর ফরজ করা হয়েছে, তেমনি পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও ফরজ করা হয়েছিল’; এ কথা দ্বারা এ তথ্য বুঝায় না যে, আগেকার উম্মতগণের সিয়াম সমগ্র শর্ত ও প্রকৃতির দিক দিয়ে মুসলিমদের উপর ফরযকৃত সিয়ামেরই অনুরূপ ছিল। যেমন, সিয়ামের সময়সীমা, সংখ্যা এবং কখন তা রাখা হবে, এসব ব্যাপারে আগেকার উম্মতদের সিয়ামের সাথে মুসলিমদের সিয়ামের পার্থক্য হতে পারে, বাস্তব ক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। বিভিন্ন সময়ে সিয়ামের সময়সীমা এবং সংখ্যার ক্ষেত্রে পার্থক্য হয়েছে। (মা’আরিফুল কুরআন)
আয়াতের অংশ ‘যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারত’ এ বাক্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাকওয়া শক্তি অর্জন করার ব্যাপারে সিয়ামের একটা বিশেষ ভূমিকা বিদ্যমান। কেননা, সিয়ামের মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিশেষ শক্তি অর্জিত হয়।
প্রকৃত প্রস্তাবে সেটাই তাকওয়ার ভিত্তি।
এমআ /চ