ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতের কার্যক্রম নিশ্চিত করে নিহতের পক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, কাল মামলার প্রথম দিনেই এজাহারকারী তথা নিহত আইনজীবীর পিতা আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি প্রদান করবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে এ হত্যাকাণ্ডের ‘প্রত্যক্ষ উসকানিদাতা ও সহযোগিতাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তাঁর নির্দেশ ও প্ররোচনায় অন্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। আদালত মামলার সিসিটিভি ফুটেজ, ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯সহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন।
শুনানিকালে কারাগারে থাকা ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রায় ২৫ মিনিট নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগপত্রকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, এই মামলায় তাঁর মক্কেলকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই পুলিশ ৩৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বর্তমানে মামলার ২৩ আসামি কারাগারে থাকলেও ১৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।