সাগরিকা পতেঙ্গার আকমল আলী রোডের বেড়িবাঁধে বিকেলের স্নিগ্ধ রোদ আর সমুদ্রের নোনা বাতাসের মাঝে বেজে উঠল চট্টগ্রামের কালজয়ী আঞ্চলিক গানের সুর—“কলিজার ভিতর গাতি রাইখখুম তোঁয়ারে।” তবে এবারের দৃশ্যপটটি একটু ভিন্ন। একদল তরুণ গিটারের তালে তালে সুরের মায়ায় ভাসতে থাকলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের এ প্রার্থী বিকেলে যোগ দিয়েছিলেন ‘ইয়ুথ টক’ নামক এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের। যেখানে রাজনীতির গম্ভীরতা ছাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং চট্টগ্রামের মাটির গান।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এ আড্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ হাতে গিটার নিয়ে চট্টগ্রামের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেম ও বিরহের গানটি গাইছেন। গানটির কথায় প্রকাশ পায় গভীর আবেগ—“কলিজার ভেতর গেঁথে রাখব তোমাকে, বুকের সঙ্গে বেঁধে রাখব তোমাকে।”
গানের এক পর্যায়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেও কণ্ঠ মেলান। রাজনীতির কঠিন ময়দান থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো সুরের সাথে তার মিতালী দেখে সেখানে উপস্থিত তরুণেরা করতালিতে ফেটে পড়েন।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সবসময়ই একজন মার্জিত ও আধুনিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে এবার নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার বিষয়টি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পতেঙ্গার সাগরপাড়ে বসে আঞ্চলিক গানের সঙ্গে তার কণ্ঠ মেলানো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন মাটির মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রয়াস হিসেবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলম, সদস্য সরফরাজ কাদের, বিএনপি নেতা মো. আশরাফ এবং চিকিৎসক ফারহানাজ মাবুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার তরুণ প্রতিনিধি এবং স্থানীয় যুবসমাজ আলোচনায় অংশ নেন।
সৈকতে উপস্থিত এক তরুণ ভোটার বলেন,’একজন সিনিয়র নেতার পাশে বসে এভাবে গান গাওয়া বা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাব ভাবিনি। তিনি আমাদের গানের সাথে সুর মেলালেন, তাতে মনে হলো তিনি আমাদেরই একজন।’
এ আড্ডা শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই নয়, বরং ভোটারদের কলিজায় জায়গা করে নেওয়ার এক আবেগঘন প্রচেষ্টা। তরুণদের দাবি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।###