নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফোকাস ডেস্ক :
বান্দরবানের লামা উপজেলাকে পরোপুরি বৈচিত্রময়। বর্তমান সময়ে পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এ তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য লামা।
কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু সারি সারি সবুজ পাহাড়, সেই সবুজ পাহাড়ে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেতে নেই মানা। প্রাকৃতি যেন তার সবটুকু রূপ ঢেলে দিয়েছে বান্দরবানের লামা’কে। এই সারি সারি সবুজ গালিচার ওপর আপনার আগমণে যোগ হবে ভিন্ন মাত্রা। উপজেলাটি যেন একটি সবুজ কার্পেটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যেদিকে দু’চোখ যাবে সবুজে সবুজে বর্ণিল, নতুন সাজে ধরা দেবে আপনার কাছে।
পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত না দেখলে প্রকৃতির যে বর্ণনাতীত সৌন্দর্যতা অনুভব করা যাবে না। তাইতো বর্ষায় মেঘ এবং শীতে কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ী পথ দিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি ঘিরে ধরবে আপনাকে। মাঝে মাঝে মনে হবে আপনি মেঘের রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। শীতে সূর্য্যের আলো ফোটার আগে বুঝার কোন উপায় নেই এটি কোন জনপদ। সূর্যোদয়ের পর ভেসে উঠে জনপদ।
মিরিঞ্জা পাহাড় থেকে দেখা যাবে লামা শহর, পাশের সবুজ সুন্দর প্রকৃতি এবং পশ্চিমে তাকালে উপকূলীয় সবুজ বনানীর পর মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কুতুবদিয়া-মহেশখালী দ্বীপের বাইরে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান জাহাজ ও বোটগুলো যেন পাহাড়ী নদীর পানসি নৌকা। লামার প্রকৃতি সেজেছে রূপের ঢালা মেলে, চারপাশে চোখ জুড়ানো সবুজ, হঠাৎ মেঘ, হঠাৎ কুয়াশা। লামার বুকে বয়ে চলা মাতামুহুরী নদী যেন স্বপ্ন জগতে নিয়ে যাবে আপনাকে। মাঝে মধ্যে উঁচু উচু পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে উকি দেয় সূর্য্যরে আলো। প্রকৃতির কাছাকাছি আসার, বুক ভরে নির্মল বাতাস নেয়ার, আর স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে চোখ জুড়ানোর একমাত্র জায়গা লামা। লামায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। অরণ্য রাণী খ্যাত লামার মিরিঞ্জা পাহাড়, সুখীয়া পাহাড়, দু:খীয়া পাহাড় এবং আশপাশের এলাকায় আবিস্কার হয়েছে শতাধিক পর্যটন স্পট। যুব সমাজ এ পর্যটন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। দূর্গম সব পাহাড় পর্বত আর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে অনেক স্থানই লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে। সেগুলো ভ্রমন উপযোগী করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এক সময়ের দুর্গম পাহাড়ি লামা বর্তমানে কোলাহলপূর্ণ বিকাশমান পর্যটন শহর।
মিরিঞ্জা
মিরিঞ্জা নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক পর্যটন স্পট। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখ প্রায় ৩৩ একর পাহড়ি ভূমিকে ঘিরে।পাহাড়টি ভূ-পৃষ্ট থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচু। “মিরিঞ্জা” পর্যটন স্পট থেকে সাগর, পাহাড়, আকাশ ও হরেক রকমের পাখি দেখা যায় দু‘নয়ন ভরে। যার ওপর রয়েছে নীল আকাশে মেঘের বিচরণ। প্রতিনিয়ত মেঘ ছুঁয়ে যায় মিরিঞ্জা পাহাড়ের গা, দৃষ্টি নন্দন টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট, ওয়াকওয়ে ও মিনি শিশু পার্ক।