নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। জেলায় এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকায় নিবন্ধন হয়েছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জনের।
অর্থাৎ ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।
শুধু ঢাকা নয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ও কুমিল্লার সম্মিলিত নিবন্ধনের চেয়েও চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ৭১২ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাধুলার প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে এ সাফল্য এসেছে।
প্রতিযোগিতা নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব’।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, চট্টগ্রামে নিবন্ধনের পেছনে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণার প্রভাব রয়েছে। আমাদের যাঁরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার আছেন, তাঁদের প্রচার-প্রচারণার কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি বলেন, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়েও এ জেলা থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। ডিসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা একাধিক সভা করেছি। জুম মিটিং থেকে শুরু করে একাধিক মিটিং করেছি। এরপর আমরা উপজেলা পর্যায়ে গিয়েছি, ইউএনও স্যারদের সঙ্গে মিটিং করেছি, আবার স্কুলপ্রধানদের সঙ্গে মিটিং করেছি’।
নিবন্ধন কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত ছিলেন।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বোপরি, ডিসি স্যারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সময়ে সময়ে যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো আসলে এই নিবন্ধন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। যার কারণে আমরা একটি ভালো ফলাফল পেয়েছি। আমরা কখনো থামিনি। প্রতিদিনই এটা নিয়ে কাজ করেছি। এগুলো শেয়ার করেছি। যার কারণে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা এমন একটি ফলাফল পেয়েছি’।
মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও ফেসবুকে প্রচারণায় যুক্ত হন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তথ্য অফিসের মাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়।
আবদুল বারী বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় যে পত্রিকাগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা নিউজ দিয়েছি। ফেসবুকে পোস্ট করেছি এবং সংশ্লিষ্ট যাঁরা ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তাঁরাও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আমাদের স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোতেও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি’।
এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।
জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রামের পর রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল ও পটুয়াখালী। কুমিল্লায় ৫১ হাজার ৮৪৮, বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন নিবন্ধন করেছে।
শীর্ষ ২০ জেলার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা দিনাজপুরে নিবন্ধন হয়েছে ৪১ হাজার ৬৯৯ জনের। সপ্তম সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম বগুড়ায় ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধন করেছে।
গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে।
নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।