নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশে অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের সংখ্যা ৮২৯। বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া এসব বাস মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না—হাইকোর্টে দেওয়া সংস্থাটির প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এর মধ্যেই চট্টগ্রামে স্লিপার বাস অনুমোদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ (হালিশহর) কার্যালয়ের উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের বিরুদ্ধে ৪০ থেকে ৪৫টি স্লিপার বাস অনুমোদনে গাড়িপ্রতি ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদনটি দেন বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন। আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে।
নথিতে শুধু স্লিপার বাস অনুমোদন নয়, যানবাহন প্রতিস্থাপন, নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন ও আমদানি-সংক্রান্ত ফাইল নিয়েও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৪৫টি স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। কোন গাড়ি, কোন তারিখে, কোন জোনের নথির ভিত্তিতে এবং কোন কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুমোদন হয়েছে—এসব তথ্য বের করে অর্থ লেনদেনের পথ শনাক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনের পর জহির উদ্দিনকে বিষয়টি প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদুল হোসেনকে চট্টগ্রামের বাইরে বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, একই পদে বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নথি, ডিজিটাল রেকর্ড, দাপ্তরিক কর্মী ও সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন।
তদন্তের স্বার্থে পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন, স্ক্র্যাপিং, নিবন্ধন ও মালিকানা পরিবর্তনের ফাইল, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো নথি সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন জানান, বিআরটিএর হালিশহর কার্যালয়ে তৌহিদুল হোসেনের দায়িত্বকালে বিভিন্ন কাজে অনিয়ম হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে সরকারবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। দপ্তরে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করার পর থেকেই তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
জহির বলেন, তৌহিদুল হোসেন একই পদে থাকলে তাঁর নিরাপত্তা এবং তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে চট্টগ্রামের বাইরে বদলি অথবা সাময়িক বরখাস্তের আবেদন করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে তৌহিদুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্লিপার বাস নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ চলছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনে বিআরটিএ জানায়, দেশে ৮২৯টি স্লিপার বাস অনুমোদন ছাড়া চলাচল করছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো স্লিপার বাস মহাসড়কে চলতে পারবে না। অনুমোদনহীন বাসের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ জানান, অনেক বাস প্রথমে সাধারণ একতলা বাস হিসেবে নিবন্ধিত হলেও পরে মালিকপক্ষ কাঠামো পরিবর্তন করে সেগুলো স্লিপার কোচে রূপান্তর করেছে। এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।