নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রশাসনিক ভবন-২ এর ভেতরে তাকে তালাবদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারও (১৩ অক্টোবর) তিনি একই অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা এবং সমস্যার সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি থাকলে তা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তবে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমি আশা করি, সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবস্থানের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া দুই সাবেক শিক্ষার্থী সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, দুজন অ্যালামনাই সদস্যের প্রেশার হাই। চিকিৎসক এসে দেখেছেন। যেহেতু আমরা বদ্ধ জায়গায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছি, সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার শিক্ষকতা জীবনে এমন ঘটনার সঙ্গে তিনি কখনো জড়িত ছিলেন না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। আমরা চাই, আমাদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।