নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
২০০৩ সাল থেকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পড়ে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিকটন বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সালফিউরিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন), নাইট্রিক অ্যাসিড ১ কনটেইনার (৫০০ কেজি), মিথানল ৫ কনটেইনার (৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন) এবং থিনার ২ কনটেইনার (৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন)।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কনটেইনার জট নিরসনে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী এসব অ্যাসিড ও অ্যাসিড জাতীয় পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে।
ধ্বংসের উদ্যোগের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (BNACWC)-এর সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম-এর ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুড়াপাড়ার ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপজ্জনক কেমিক্যালবাহী যানবাহনগুলো পুলিশ স্কর্টে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।
বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন বিশেষ এ ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।
এর আগে ২০২১ সালে বন্দরের পি শেডে পড়ে থাকা ২০ বছরের পুরোনো ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য সিলেটের সুনামগঞ্জের লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কাজ করেছিল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ ইত্যাদি।
বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বিশাল গর্ত করে এসব পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু হয়। এর আগে গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দুই লটে পাঁচ কনটেইনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও পারসোনাল কেয়ার প্রডাক্ট (শ্যাম্পু) ধ্বংস করা হয়েছিল।
কাস্টম হাউস পরিচালিত পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী অবদান রাখবে মনে করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। বাজারে পণ্যের দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কা, মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকি, ছাড়পত্র না মেলা, মামলাসহ নানা কারণে অনেক চালান খালাস হয় না। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বন্দরে পড়ে থাকে। কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে বা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় এসব পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার ফেরত পায় শিপিং এজেন্ট।