শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertisement

হঠাৎ বাড়তি রড-সিমেন্টের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হঠাৎ বাড়তি রড-সিমেন্টের দাম

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের নির্মাণসামগ্রীর বাজারে আবারও সঞ্চার হয়েছে গতি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে গতি এসেছে, পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়েও বাড়ছে নির্মাণকাজ। ফলে নির্মাণ উপকরণের চাহিদা আগের তুলনায় স্পষ্টভাবে বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারদরে। গত এক সপ্তাহেই রডের দাম টনপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, একই সময়ে সিমেন্টের বস্তাপ্রতি দামও বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ বাজারে নির্মাণ কার্যক্রম বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, এই দুই কারণ মিলেই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে মিলগেট পর্যায়ে ৭৫ গ্রেডের এমএস রড প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার ৫০০ থেকে ৯২ হাজার ৫০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই মানের রডের দাম ছিল ৮১ থেকে ৮৩ হাজার টাকার মধ্যে। বিভিন্ন কারখানার মধ্যে বিএসআরএম রড বিক্রি হয়েছে ৯২ হাজার ৫০০ টাকায়, কেএসআরএম ৯২ হাজার ২০০ টাকায় এবং জিপিএইচ ও একেএস রড ৯০ হাজার ৫০০ টাকায়। একইভাবে ৬০ গ্রেডের রডের দামও গত এক সপ্তাহে প্রায় ৯ হাজার টাকা বেড়ে এখন ৮৭ হাজার থেকে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এইচএম স্টিল, বিএসএল ও জেডএসআরএম রড ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা, আল আকসা, মুনতাহা, কদমতলী, ডিএসআরএম ও জেএসআরএম ৮৮ হাজার টাকা এবং ফ্রেশ, আইআরএমএল ও এইচকেজি রড ৮৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে বাড়ল ডলারের দামমধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে বাড়ল ডলারের দাম
রডের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর সিমেন্টের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। কনফিডেন্স সিমেন্টের (গ্রিন) এজেন্ট এস এম আরিফুজ্জামান জানান, গত তিন দিনের মধ্যে প্রায় সব ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে রুবি সিমেন্ট ৫২০ টাকা, কনফিডেন্স ও ডায়মন্ড ৫০০ টাকা, রয়েল ৪৯৫ টাকা, সেভেন রিং ৪৯০ টাকা, রাজমিস্ত্রি ৪৮০ টাকা এবং প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৪৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণ খাত প্রায় স্থবির ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় রডের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসে। এতে অনেক কারখানাকে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। চট্টগ্রামে কেআর স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাত, বায়েজিদ স্টিল, সীমা স্টিল, শীতলপুর স্টিল, এসএস স্টিলসহ কয়েকটি কারখানায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর চীনে ১ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পাঠিয়েছে ইরানযুদ্ধ শুরুর পর চীনে ১ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পাঠিয়েছে ইরান
প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, দীর্ঘদিন বাজারে স্থবিরতা থাকায় প্রায় দেড় বছর উৎপাদন খরচের নিচে পণ্য বিক্রি করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে উৎপাদন খরচের কিছুটা সমন্বয় হয়েছে।

শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জাহাজভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ইস্পাতের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ এবং সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানির খরচও বেড়েছে। রয়েল সিমেন্টের জিএম আবুল মনসুর জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্লিংকারের বুকিং দর বেড়েছে এবং আমদানি ব্যয় বাড়ায় সিমেন্টের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

এইচএম স্টিলের পরিচালক সরওয়ার আলম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে গত দুই সপ্তাহে এমএস রডের বিক্রি বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কেআর স্টিলের চেয়ারম্যান সেকান্দার হোসেনও মনে করেন, নির্বাচনের পর নির্মাণ খাতে গতি বাড়ায় সামনে রডের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দুই শতাধিক ইস্পাত কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বড় প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪০টি। এসব কারখানার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন রড হলেও দেশের বার্ষিক ব্যবহার প্রায় ৭৫ লাখ টন। এই খাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে এবং বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

সূত্র ; আজকরে পত্রিকা

Facebook Comments Box
আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস