শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertisement

হালিশহর বিআরটিএতে দালালচক্রের ঘুষ বাণিজ্য, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হালিশহর বিআরটিএতে দালালচক্রের ঘুষ বাণিজ্য, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হালিশহর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে সরকারি নিয়মে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সরাসরি ফাইল জমা দিয়ে কাজ শেষ করতে সময় লাগলেও দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিলে দ্রুত কাজ এগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ের উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) তৌহিদুল হোসেনের ছত্রচ্ছায়ায় বাবু কান্তি দাশসহ কয়েকজনের একটি চক্র এসব কাজে সক্রিয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু সরাসরি ফাইল জমা দিতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে বাড়তি টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ফাইল পাঠালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে যাচ্ছে বলে জানান একাধিক সেবাপ্রত্যাশী।

মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে নিয়মিত দেখা যায় বাবু কান্তি দাশকে। অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে পরিচিত হলেও মালিকানা শাখায় চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে বিভিন্ন ফাইলের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাড়তি টাকা নিয়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।

রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস ও কাগজপত্র সংশোধনের মতো সেবায় জসিমসহ আরও কয়েকজনকে সক্রিয় দেখা যায় বলে জানান সেবাপ্রত্যাশীরা। কে কোন শাখার কাজ করবেন, কোন ফাইল দ্রুত পাঠানো হবে—এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। দালালের মাধ্যমে পাঠানো ‘চিহ্নিত’ ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

মুসলিম উদ্দিন নামের এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সরাসরি কাজ করতে গেলে সময় লাগে। দালালের টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়।’

ইমরান নামে আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালে কখনো সার্ভার, আবার কখনো ইন্টারনেট সমস্যার কথা বলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে টাকা দিলে কাজ করে দেওয়া হয়। জসিম, বাবুসহ কয়েকজন এসব কাজ করেন। তৌহিদ স্যার তাদের সুযোগ করে দেন।’

দালালদের মাধ্যমে যানবাহনের কাগজপত্র দ্রুত করে দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ির পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।

বিআরটিএতে দীর্ঘদিন দালালি করে বাবু কান্তি দাশের সম্পদ বাড়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তৌহিদুল হোসেনের সরকারি নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১-এর উপপরিচালক আলামিন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তারপরও আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি।’

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস