ফোকাস ক্রীড়া : | শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা সিয়াম সাধনা করছেন, যার প্রভাব পড়ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলেও। বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মুসলিম খেলোয়াড়রা কীভাবে রোজা রেখে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখছেন এবং ক্লাব তাদের জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শনিবার এল্যান্ড রোডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটি চলাকালীন ইফতারের জন্য সাময়িক বিরতি দেখা যেতে পারে। যেহেতু ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫:৩০ মিনিটে শুরু হবে এবং সূর্যাস্ত হবে ৫:৪১ মিনিটে, তাই ওমর মারমুশ, রাইয়ান আইত-নুরি, রাইয়ান চেরকি বা আবদুকোদির খুসানভদের মতো মুসলিম খেলোয়াড়রা ইফতারের জন্য সাইডলাইনে আসার সুযোগ পেতে পারেন।
লিডস কর্তৃপক্ষ সিটির এমন অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে জানা গেছে।
খেলোয়াড়দের এই ধর্মীয় রীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার। তিনি জানান, ক্লাবে দক্ষ পুষ্টিবিদ রয়েছেন যারা খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করে দেন।
গার্দিওলা বলেন, ‘তারা এই ধর্মীয় ঐতিহ্যে অভ্যস্ত।
প্রিমিয়ার লিগের সময়সূচী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে তারা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং জানে কীভাবে এই সময়ে নিজেদের সামলাতে হয়।’
২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে ‘মুসলিম চ্যাপলেইনস ইন স্পোর্টস’ নামক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ম্যানসিটি। এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ইসমাইল ভামজি নিয়মিত ক্লাব পরিদর্শন করেন, নামাজে ইমামতি করেন এবং খেলোয়াড় ও স্টাফদের বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে পরামর্শ দেন। এমনকি গাজা সংকট বা সমসাময়িক মানবিক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও তিনি খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে মুসলিম খেলোয়াড়দের অবদান অপরিসীম। ইয়াইয়া তোরে, ইলকায় গুন্দোয়ান এবং রিয়াদ মাহরেজদের মতো তারকারা ক্লাবের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ইয়াইয়া তোরের আপত্তির কারণেই প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে শ্যাম্পেনের বদলে ট্রফি দেওয়ার রীতি শুরু হয়। বর্তমানে সিটির ট্রেনিং কিটে জাপানি বিয়ার কোম্পানির স্পন্সর থাকলেও মুসলিম খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে সেখানে অ্যালকোহলমুক্ত ‘জিরো পারসেন্ট’ ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করা হয়।
২০ বা ২১ মার্চ রমজান শেষে ইংল্যান্ডে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
ঠিক তার পরের রোববারই কারাবাও কাপের ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানসিটি। ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য সেই শিরোপা জয় হতে পারে ঈদের সেরা উপহার।
এম আ /.চ