শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertisement

উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন পাচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৮৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন পাচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। একারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দাতা সংস্থার শর্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই।

আমি স্পষ্টভাবে বলছি, তেলের দাম বাড়ানো আইএমএফের শর্ত নয়।’
তিনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং অনেক দেশ আগেই দাম সমন্বয় করেছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় দাম বাড়ায়নি। তবে সরকারের তহবিলের ওপর চাপ বাড়ায় সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর দাবি, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এটিকে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন সরল সমীকরণ সব সময় ঠিক নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে, তাহলে প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব।’

আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

তিনি জানান, বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনায় শুধু ঋণের পরিমাণ নয়, উভয় পক্ষের শর্ত ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। এটি কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি লেনদেন।’

তিনি বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে।

আইএমএফ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগের সরকারের সময় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল এবং এতে বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য নয়। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তা গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরও ছয় থেকে সাত মাস রয়েছে। এরপর নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।

শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।

তিনি আরও জানান, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক বিষয়ের মিল রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থাকা সংস্কারগুলো সরকার নিজস্ব উপায়ে এগিয়ে নিচ্ছে।

অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা দিতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। তবে কত সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই বলা যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।’

এম আ / চ

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস