নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশে নতুন কোনো গণমাধ্যম বাজারে আসার আগে সাধারণত সব পেশাজীবীদের নিয়ে সুধী সমাবেশ করার একটি রেওয়াজ রয়েছে। উদ্দেশ্য—নিজেদের আগমন জানান দেয়া। কিন্তু সেই চেনা ছক ভেঙে এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করলো ‘আগামীর সময়’।
সচরাচর নতুন কোনো গণমাধ্যম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডেকে পরামর্শ চায় না; বড়জোর সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার চট্টগ্রামের ‘রোদেলা বিকেল’এ দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। আগামীর সময়-এর যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহারের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে এসেছিলেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন এবং নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক। তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন চট্টগ্রামের মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার অন্তত ৩৫ জনের বেশি অভিজ্ঞ ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র সাংবাদিক।
সেই অনুষ্ঠানটি ছিল শুধুই সাংবাদিকদের জন্য। ফলে আলোচনা ছিল অকপট, যেখানে উঠে এসেছে সমালোচনা, যুক্তি আর আগামীর চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুগান্তরের চট্টগ্রাম প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার একটি যৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন— “আমরা সবাই তো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী, তবে আমাদের কেন ডাকলেন?” অবশ্য উত্তরটি তিনি মোস্তফা মামুনের শুভেচ্ছা বক্তব্যেই পেয়ে যান এবং তা স্বীকারও করেন। সম্পাদক মোস্তফা মামুন সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা এমন কিছু করবো যাতে নতুন পাঠক তৈরি হয়। আমরা অন্যের পাঠকে ভাগ বসাবো না, বরং আমাদের নিজস্ব পাঠক বলয় তৈরি করবো।”
অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে পত্রিকা, অনলাইন এবং মাল্টিমিডিয়াতে আসার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগামীর সময়কে জানারেন বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান নাসির উদ্দিন তোতা। তার পরামর্শ, সার্কুলেশন, মার্কেটিং, নিউজ; নতুন যোগ হওয়া মোবাইল জার্নালিজমের মতো চারটি বিষয় একই বিন্দুতে সমানতালে মিলিত করতে পারলে পত্রিকা সফল হবেই।
বণিক বার্তার প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরীর মতে, নতুন পত্রিকা ভবিষ্যতে কেমন করবে তা বোঝা যায় কনটেন্ট এবং টীমের ওপর। আমরা বুঝতেই পারছি দুটোই অসাধারন হয়েছে। এখন দেখার পালা।
ডেইলি স্টারের ব্যুরো প্রধান দ্বৈপায়ন রনি দারুণ একটা পয়েন্ট তুলে ধরলেন, সেটি হচ্ছে-চারপাশে এত ফেইক কনটেন্ট, এত সাংবাদিক। মেইনস্ট্রিম সাংবাদিকদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে সেসব মোকাবিলা করা। আজকের মতো এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং করলে মেইনস্ট্রিম সাংবাদিকতা আবার সাহস নিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে।
একাত্তর টিভির ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী এই কঠিন সময়ে কাগজের পত্রিকা প্রকাশকে রিস্ক মনে করেন। তবে তিনি এও বললেন নিশ্চয়ই সম্পাদকের মধ্যে এমন কিছু আইডিয়া আছে যা রিস্ককে ছাপিয়ে সফল হবে।
ডেইলি সানের ব্যুরো প্রধান নুর উদ্দিন আলমগীর বর্তমান পাঠকের ট্রেন্ড মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, এমনভাবে নিউজ করতে হবে পাঠকই যেন আগামীর সময়ের নিউজটি খুঁজে নেন।
সবাই যখন এভাবে চ্যালেঞ্জ ঝুঁকির কথা স্মরণ করাচ্ছিলেন। বিপরিতে অনেকেই সাহস যুগিয়ে চ্যালেঞ্জ উতরানোর পথ দেখালেন। দেশ বর্তমান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জনাব ফারুক ইকবাল দৃঢ়তার সাথে বললেন, আগামীর সময়ের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, চট্টগ্রাম টীমের দক্ষতা সম্পর্কে আমার জানা আছে। ফলে তাার সবকিছু ছাপিয়ে যাবেন।
আমাদের সময় চট্টগ্রাম প্রধান হামিদ উল্লাহ রফিকুল বাহার ভাই, মোস্তফা মামুন ভাইয়ের অসাধারন লিডারশীপের কথা মনে করালেন। আবার পত্রিকার নাম নিয়ে কিছুটা কৌতুকপূর্ণ উস্মা প্রকাশ করতে ছাড়লেন না।
আজকের পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ দারুণ একটি পয়েন্ট তুলে ধরে বলেছেন, কঠিন চ্যালেঞ্জিং সময়ে আসা গণমাধ্যমগুলো সফল হয়। কারণ তখন তারা ভালো রিপোর্টার-সাংবাদিক পাওয়া যায়। এখন ক্রাইসিস সময়ে এই সুযোগ সম্পাদক মোস্তফা মামুন পেয়েছেন বলেই আপনি ভালো করবেন।
নয়াদিগন্তের ব্যুরো প্রধান নুরুল মোস্তফা কাজী প্রফেশনাল সাংবাদিকদের ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে চট্টগ্রামের টীমকে পাইওনিয়ার বলেছেন। একইসাথে আশা করেন চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আগামীর সময় তুলে ধরবে।
বৈশাখি টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ বলেন, মামুন ভাই এবং বাহার ভাইয়ের যে ভিন্নধর্মী চিন্তা এবং ডায়নামিক লিডারশিপ একইসাথে ফাস্ট ফরােয়ার্ড চিন্তা তাতে অবশ্যই আগামীর সময় ভালো করবেই।
ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সেলিম ভাই তো বলেই বসলেন আগামী সময়ের চট্টগ্রাম টিম হচ্ছে ‘পঞ্চপান্ডব’এর মতো সেরাদের সেরা! রফিকুল বাহার ভাই চট্টগ্রামে সেরাদের বেছে নিয়েছেন। তারা ভালো রিপোর্ট করবে পত্রিকা এগিয়ে যাবে।
প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি মাসুদ মিলাদের কথায় স্পোর্টস রিপোর্টার মামুন ভাই যখন সম্পাদক হলেন তখন আমার কাছে মনে হয়েছে আগামীর সময় ভালো কিছু হবে। দেশরূপান্তরের অভিজ্ঞতায় নতুন এক্সপেরিয়েন্স উনি প্রয়োগ করবেন। আর বাহার ভাইয়ের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম খুব ভালো টীম, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান মজুমদার নাজিমুদ্দিন মনে করিয়ে দিলেন একজন স্পোর্টস রিপোর্টার থেকে মোস্তফা মামুনের সম্পাদক হয়ে উঠার গৌরবের কথা।
বাংলানিউজের ডেপুটি এডিটর তপন চক্রবর্তী সব গণমাধ্যমকর্মীকে ওয়েজবোর্ড দিয়ে পত্রিকা শুরু করার প্রশংসা করে বললেন, এই পত্রিকা সফল হতেই হবে।
আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জনাব জাহিদুল করিম কচি উপস্থিত সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদকের উদ্দেশ্য বলেছেন, সত্যকে সত্য বলার সাহস যেটা আপনারা আগে দেখিয়েছেন। আগামীতে দেখাবেন এই দৃঢ় আশা রাখি।
আজাদীর চীফ রিপোর্টার জনাব হাসান আকবর বললেন, চট্টগ্রাম পত্রিকার রাজস্ব এবং নিউজের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার। সেই বাজার ধরার জন্য একজন রফিকুল বাহার সবচেয়ে যোগ্য লোক। আর রফিকুল বাহার যাদেরকে নিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট বীটের টপপ্লেয়ার। ফলে আগামীর সময় সফল না হওয়ার উপায় নেই।
সমকাল-এর রিজিওনাল এডিটর সারোয়ার সুমন অনুষ্ঠানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি তুলে ধরে বলেন, দিনশেষে আমরা সাংবাদিক আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সেটি প্রমান হলো। আজকে সবপথ, সব মতের সাংবাদিককে একই প্লাটফরমে আনতে পারার পুরো কৃতিত্ব বাহার ভাইয়ের। চট্টগ্রাম শহরে কেবল তার পক্ষেই সেটি সম্ভব হয়েছে। যেটা আমরা অনেকদিন ধরেই চেয়ে আসছিলাম ।
প্রথম আলো চট্টগ্রামের বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের আবাসিক সম্পাদক কামাল পারভেজ, দৈনিক পূর্বকোণের চিফ রিপোর্টার সাইফুল আলম, প্রথম আলোর চট্টগ্রাম অফিসের হেড অব নিউজ আশরাফ উল্লাহ রুবেল, সময় টেলিভিশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান কমল দে, বিডিনিউজের ব্যুরো প্রধান মিন্টু চৌধুরী, দেশ রূপান্তরের ব্যুরো প্রধান ভূঁইয়া নজরুল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান আলমগীর সবুজ, কালবেলার ব্যুরো প্রধান সাইদুল ইসলাম, খবরের কাগজের ব্যুরো প্রধান ইফতেখারুল ইসলাম, খবরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক বর্তমান সাংবাদিকতার চালেঞ্জ আগামীর সম্ভাবনা-শঙ্কা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক এই আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসা সুপারিশগুলো ‘আগামীর সময়’-এর যাত্রাপথকে যেমন মসৃণ করবে, তেমনি এই উদ্যোগ অন্য গণমাধ্যমগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আমার মনে হয়েছে। আগামীর সময় এই যাত্রা শুরু করেছে। অন্য গণমাধ্যম ধারবাহিকতা রক্ষা করবে।