নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে ইতিহাসের দরজা খুলেছে, ম্যাকাইয়ে সেই দরজা দিয়েই আরও বড় সাফল্যের পথে হাঁটার সুযোগ। দ্বিতীয় টেস্টে জয় এলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব পাবে বাংলাদেশ।
আর এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের জন্য যে মাঠটি বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও নিজেই ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা প্রথমবারের মতো টেস্ট আয়োজন করছে। অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘ সংস্করণে অভিষেক হচ্ছে মাঠটির।
মজার বিষয় হলো, এই মাঠ বাংলাদেশের কাছে যেমন একেবারেই নতুন, অস্ট্রেলিয়ারও এখানে টেস্ট খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা মাত্র দুটি ম্যাচের। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে হয়েছিল এখানে। একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা, অন্যটিতে হার।
অর্থাৎ, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টেস্টের পরিবেশ, উইকেটের আচরণ কিংবা দীর্ঘ পাঁচ দিনের ক্রিকেটের চাপ, সবকিছুই দুই দলের জন্য অনেকটাই নতুন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও মাঠটির ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কুইন্সল্যান্ডের একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল এই অধ্যায়। এরপর প্রায় দুই দশক মাঠটিতে আর কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়নি।
পরবর্তীতে শেফিল্ড শিল্ডের দুটি ম্যাচ এবং নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’র দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। এর মধ্যে একটি ছিল গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির ম্যাচ।
ম্যাকাইয়ে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দেখা গেছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ সহজ জয় পেয়েছিল। জয়ের নায়ক ছিলেন ডানহাতি পেসার ব্রেন্ডন ডগেট। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ভারত ‘এ’ দলের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। ডগেট নিয়েছিলেন ১৫ রানে ৬ উইকেট।
এবার সেই মাঠেই ফিরছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। তবে এবার মঞ্চ আরও বড়। সামনে টেস্ট ক্রিকেট।
আর এই নতুন টেস্ট ভেন্যুর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে যোগ দেওয়া ম্যাট রেনশর সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এখন পর্যন্ত দুটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনিই।
২০১৫ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ১৭০ রান করেছিলেন রেনশ। আট বছর পর, ২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে একই মাঠে করেন ১৩৫। ফলে মাঠটির পরিবেশ তাঁর কাছে অপরিচিত নয়।
প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে ছিলেন না রেনশ। ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে বড় হারের পর জেক ওয়েদারাল্ডকে সরিয়ে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। এবার সেই রেনশর সামনে সুযোগ এসেছে আরও বড় ইতিহাসের অংশ হওয়ার।
একদিকে বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নতুন টেস্ট ভেন্যুতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রেনশর পুরোনো মাঠের গল্প।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় তাই শুধু বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই হবে না। টেস্ট অভিষেকের দিন মাঠটিও পাবে নিজের প্রথম ক্রিকেটীয় ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসে কোন দলের নাম প্রথমে লেখা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।