শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertisement

জামায়াতের করুণা নিয়ে আবদুল হামিদরা এখনো বেঁচে আছে: ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৬১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জামায়াতের করুণা নিয়ে আবদুল হামিদরা এখনো বেঁচে আছে: ফজলুর রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, বছরের পর বছর দেশে আসতে পারিনি। আবদুল হামিদ আমাকে দেশে আসতে দেয়নি। আমার মা-বাবার কবরে গিয়েও মোনাজাত পড়তে দেয়নি। ঈদের দিনও আমি দেশে আসতে পারিনি। আমাকে নির্বাসনে রাখছে আবদুল হামিদ। মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে আমাকে জেলখানায় রাখছে। আর আজকে আমি কোথায়, আর আবদুল হামিদ কোথায়? একটু বিচার করেন তো আপনারা। আল্লাহ কার পক্ষে আপনারা দেখেন।

তিনি আরও বলেন, এখন জামায়াতে ইসলামীর করুণা নিয়ে আবদুল হামিদকে বেঁচে থাকতে হয়। তার শ্যালক জিহাদ খান এখন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্ডিডেট। জামায়াতের করুণা নিয়ে গোলাম আযমের ছেলে আযমীর করুণা নিয়ে আর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের দোয়া নিয়ে সরকারকে ম্যানেজ করে বিদেশ যেতে হয় এবং আসতে হয় তাকে।

শনিবার বিকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের চৌগাংগা কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন।

চৌগাংগা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল জব্বারের রুহের মাগফিরাত কামনায় এ শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মো. ফজলুর রহমান বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হামিদেরা এখন জামায়াতে ইসলামীর করুণায় বাংলাদেশে বেঁচে আছে। এদেরকে থু-তু দিতে হয়। এ কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর করুণা নিয়ে এক সেকেন্ড পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই না, না, না, না। আমি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের করুণা নিয়ে এ দেশে বাঁচতে চাই না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান আরও বলেন, দেশ-জাতি আজকে বড় বিপদের সামনে পড়েছে। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ একটা দুঃসময়ের মধ্যে আছে। আজকে মুক্তিযুদ্ধ যখন সবচেয়ে দুঃসময়ে পড়েছে, এ সময়ে আমি আঙুল সোজা করে বলতে চাই- সবকিছু দিব মুক্তিযুদ্ধ আমি কাউকে দিব না। মাথা উঁচু করে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আমি কোনোদিন হারিয়ে যেতে দেব না, সে যে-ই হোক। আমি লাভ চাই না, লোভ চাই না, ক্ষমতা চাই না, অর্থ চাই না, বিত্ত চাই না, জীবন চাই না; চাই শুধু বাঙালি জাতির একটা স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে, যে রাষ্ট্রটা আমরা যুদ্ধ করে সৃষ্টি করেছিলাম। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মানি না মানে মা-কে মানি না। বাঙালি জাতির মা হলো মুক্তিযুদ্ধ।

নতুন বাংলাদেশ দিবস ঘোষণা প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, এ দেশের নাম বাংলাদেশ থাকবে, এই দেশে যতদিন চন্দ্রসূর্য উঠবে, ততদিন বাংলার ত্রিশ লাখ শহীদের নাম কেউ ভুলবে না। বাংলাদেশ ছাড়া এ দেশের নাম আমরা কোনোদিন কেউ পরিবর্তন করতে দিব না। যদি এই দেশের নাম আবার পাকিস্তান না চান, তাহলে তৈরি থাকেন। নতুন বাংলাদেশ হবে কেন? বাংলাদেশ ৭১ সালেই সৃষ্টি হয়েছে। চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে হুঁশিয়ার থাকতে হবে।

চৌগাংগা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তোতা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শোকসভায় ফজলুর রহমান বলেন, আজকে দেশ কোন দিকে গেছে দেখেন। আমি বলেছিলাম, ছয় দিন টাইম চেয়ে আপনি এক ঘণ্টা টাইম দিলেন না ইউনূস সাহেব। এখন এমন হইছে যে ১৫ ঘণ্টা প্লেন চালাইয়া লন্ডন গেছেন। গিয়ে আবার বুঝ করে আসছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিবেন। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আর গণ্ডগোল করতে চাই না। জীবনে আর ফাইট করতে চাই না। আপনি শেষ করেন; কিন্তু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন না কেন?

শোকসভায় অন্যদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনির উদ্দিন, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন মীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments Box
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস