বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertisement

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন, যেসব খাওয়াবেন না

ফোকাস ডেস্ক :   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৩৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন, যেসব খাওয়াবেন না

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বর্তমানে হামে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গগুলো দেখা দেয় এবং তারপর তা মাথা থেকে শরীরের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকে শুরু করে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকে।

হাম হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

প্রচণ্ড জ্বর
নাক দিয়ে পানি পড়া
কাশি
চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া
চ্যাপ্টা লাল দাগের মতো ফুসকুড়ি, যা একত্রে উঁচু হয়ে উঠতে পারে।
হাম হলে শিশুকে যা খাওয়াতে হবে

হাম থেকে দ্রুত আরোগ্যলাভের জন্য সুষম পুষ্টি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। এ থেকে সেরে ওঠার জন্য একটি পুষ্টিকর ও সুপরিকল্পিত খাদ্যতালিকা অপরিহার্য।

এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া উচিত। কারণ তখন ক্ষুধামান্দ্য থাকে এবং এসব ফলের রস রুচি বাড়াতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে রোগীকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, যাতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার জন্য প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল অন্তর্ভুক্ত থাকে।

পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দিতে হবে

পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে পানি ও পানিজাতীয় ফল, শাকসবজি, স্যুপ ইত্যাদি। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে কুসুম গরম তরল খাবার খাওয়ানো জরুরি। সেসব খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন ‘এ’ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি হামের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। শিশুর খাদ্যতালিকায় গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক এবং ব্রকলি অন্তর্ভুক্ত করুন।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান

শরীরের সার্বিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। খাবারে চর্বিহীন মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম, দুধজাত খাবার, ডাল, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন।

জিংকসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জিংক গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি হামের স্থায়িত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনার শিশুর খাদ্যতালিকায় লাল মাংস, মুরগির মাংস, শিম, বাদাম এবং গোটা শস্যের মতো খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

ভিটামিন ‘সি’ অন্তর্ভুক্ত করুন

হাম থেকে সেরে ওঠার ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘সি’র কোনো সরাসরি সংযোগের প্রমাণ না থাকলেও, এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর খাদ্যতালিকায় লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম এবং কিউইয়ের মতো খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: এগুলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ জন্য সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগতে পারে বেশি।

চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার: এগুলো হজম করা কঠিন হতে পারে এবং পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ঝাল খাবার: এগুলো গলা ও মুখে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, ফলে কাশি ও গলাব্যথার মতো উপসর্গগুলো আরও বেড়ে যায়।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়: এ ধরনের খাবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক বলে আক্রান্ত শিশুকে অবশ্যই অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে রাখতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন। বিশ্রাম তার সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। হাম থেকে সেরে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল, শাকসবজি, শস্যদানা ও চর্বিহীন প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করলে তা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। এ সময় শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে জন্য একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। যেকোনো ধরনের জটিলতায় যত দ্রুত সম্ভব কাছের হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

Facebook Comments Box
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
এস আই চৌধুরী
পরিচালনা সম্পাদক
আশরাফুল হক আকিব
বার্তা সম্পাদক
আমির হোসাইন
ঢাকা অফিস
  • সুইট নাম্বার ৪০৪/এ (৫ম তলা), পল্টন টাওয়ার, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
চট্টগ্রাম অফিস